৮ জুলাই, ২০২৬
প্রস্রাবে Pus Cell বেশি হওয়া: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়
প্রস্রাব পরীক্ষায় অনেক সময় Pus Cell বা শ্বেত রক্তকণিকার উপস্থিতি দেখা যায়। এর মানে কী, কেন এমন হয় এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—তা এই আর্টিকেলে সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্রাবে Pus Cell মানে কী?
অনেকেই প্রস্রাব পরীক্ষা (Urine R/E) করে রিপোর্টে 'Pus Cell' বা 'WBC' (White Blood Cell) বেশি দেখে ভয় পেয়ে যান। মূলত আমাদের শরীরের কোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে শরীর তা প্রতিরোধের জন্য শ্বেত রক্তকণিকা পাঠায়। এই শ্বেত রক্তকণিকাগুলো যখন মূত্রনালীর মাধ্যমে বেরিয়ে আসে, তখন তাকেই Pus Cell বলা হয়। সাধারণত প্রস্রাবে ১-২টি Pus Cell থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি থাকলে তা শরীরে কোনো সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
Pus Cell কেন বেশি হয়?
প্রস্রাবে Pus Cell বেশি থাকার প্রধান কারণ হলো মূত্রনালীর সংক্রমণ বা UTI (Urinary Tract Infection)। এছাড়াও আরও কিছু কারণে এটি হতে পারে: ১. মূত্রাশয়ে সংক্রমণ (Cystitis)। ২. কিডনিতে সংক্রমণ (Pyelonephritis)। ৩. যৌনবাহিত রোগ (STI)। ৪. প্রস্রাবে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা (প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখা)। ৫. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা। ৬. ডায়াবেটিস বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
লক্ষণসমূহ কী কী?
যদি আপনার রিপোর্ট অনুযায়ী Pus Cell বেশি থাকে এবং সেই সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে সতর্ক হতে হবে: - প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হওয়া। - বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া। - তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি। - প্রস্রাবের রঙ ঘোলাটে হওয়া বা কড়া গন্ধ হওয়া। - জ্বর বা কাঁপুনি দিয়ে শরীর গরম হওয়া। - কোমরের দুই পাশে বা পেছনের দিকে ব্যথা হওয়া।
আপনার করণীয় কী?
যদি রিপোর্টে Pus Cell বেশি আসে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকুন। ডাক্তাররা সাধারণত নিচের পরামর্শগুলো দিয়ে থাকেন:
১. প্রচুর পানি পান করুন: দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করলে মূত্রনালীর জীবাণু প্রস্রাবের সাথে ধুয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ২. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করা উচিত। ৩. প্রস্রাব চেপে রাখবেন না: প্রস্রাবের বেগ হলে দ্রুত টয়লেটে যান। ৪. নিয়মিত পরীক্ষা: যদি লক্ষণ থাকে, তবে ইউরিন কালচার (Urine Culture and Sensitivity) পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এতে কোন ধরনের জীবাণু সংক্রমণ হয়েছে এবং কোন ওষুধে তা ভালো হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
সব সময় Pus Cell এর জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না, তবে নিচের পরিস্থিতিতে দেরি করা ঠিক নয়: - যদি প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়। - যদি প্রচণ্ড জ্বর ও পিঠে ব্যথা থাকে (এটি কিডনি সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে)। - গর্ভাবস্থায় Pus Cell পাওয়া গেলে অবহেলা করবেন না। - যদি বারবার একই সমস্যা হতে থাকে।
সাবধানতা
নিজের ইচ্ছামতো ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। এতে জীবাণু ওই ওষুধের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে ওঠে (Antibiotic Resistance), যা পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ওষুধ সেবন করুন। নিয়মিত সুষম খাবার খান এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
মনে রাখবেন, স্বাস্থ্য সাথী অ্যাপের মাধ্যমে আপনি যেকোনো সময় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।
এটি শিক্ষামূলক তথ্য — চিকিৎসা সিদ্ধান্ত শুধু ডাক্তারের সাথে নিন।