৮ জুলাই, ২০২৬
টেস্টোস্টেরন হরমোন বেশি হলে কী হয়? লক্ষণ ও করণীয়
টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? এই ব্লগে আমরা জানব এর লক্ষণ, কারণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
টেস্টোস্টেরন কী?
টেস্টোস্টেরন হলো শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। যদিও এটি পুরুষ হরমোন হিসেবে পরিচিত, কিন্তু নারীদের শরীরেও সামান্য পরিমাণে টেস্টোস্টেরন থাকে। এটি মূলত শরীরের পেশি গঠন, হাড়ের ঘনত্ব এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যখনই এই হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, তখন শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন বাড়লে কী হয়?
পুরুষদের শরীরে খুব কম ক্ষেত্রেই টেস্টোস্টেরন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়। তবুও যদি এমনটি ঘটে, তবে সাধারণত সাপ্লিমেন্ট (ওষুধ বা কৃত্রিম হরমোন) গ্রহণের কারণে এটি হয়। এর লক্ষণগুলো হলো:
১. মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা হঠাৎ রেগে যাওয়া। ২. ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা বেড়ে যাওয়া। ৩. ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমানোর সময় শ্বাসকষ্ট)। ৪. শরীরে পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা ফোলাভাব দেখা দেওয়া। ৫. হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
নারীদের শরীরে টেস্টোস্টেরন বাড়লে কী হয়?
নারীদের শরীরে টেস্টোস্টেরন বেড়ে যাওয়া বেশ সাধারণ একটি বিষয়, যা সাধারণত পিসিওএস (PCOS - পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম) বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়। এর লক্ষণগুলো হলো:
১. মুখমণ্ডল, বুক বা পিঠে অবাঞ্ছিত লোম গজানো (হিরসুটিজম)। ২. অনিয়মিত মাসিক বা দীর্ঘ সময় মাসিক বন্ধ থাকা। ৩. চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা মাথা থেকে চুল পড়া। ৪. তীব্র ব্রণ হওয়া। ৫. ওজন বেড়ে যাওয়া বা শরীরের গঠনের পরিবর্তন। ৬. কণ্ঠস্বর কিছুটা ভারী হয়ে যাওয়া।
কেন টেস্টোস্টেরন লেভেল বেড়ে যায়?
টেস্টোস্টেরন বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:
১. জীবনযাপন: উচ্চমাত্রার প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েড গ্রহণ। ২. পিসিওএস: নারীদের ক্ষেত্রে এটি টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। ৩. টিউমার: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি বা ডিম্বাশয়ে কোনো টিউমার থাকলে হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যেতে পারে। ৪. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: শরীরের ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ না করলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
কী করবেন এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি আপনার মনে হয় শরীরে টেস্টোস্টেরনের ভারসাম্যহীনতা আছে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই ধরা সম্ভব।
- লাইফস্টাইল পরিবর্তন: সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। - চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি আপনার মাসিক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, অবাঞ্ছিত লোমের আধিক্য দেখেন বা দ্রুত ওজন বেড়ে যায়, তবে অবশ্যই একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রিনোলজিস্ট-এর সাথে দেখা করুন। - রক্ত পরীক্ষা: চিকিৎসক আপনার অবস্থা বুঝে টেস্টোস্টেরন লেভেল দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন।
মনে রাখবেন, ইন্টারনেটের তথ্য বা অন্যের পরামর্শে কোনো ওষুধ বা হরমোন সাপ্লিমেন্ট সেবন করবেন না। এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। স্বাস্থ্য সাথী অ্যাপের মাধ্যমে আপনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। নিজের শরীরের কথা শুনুন এবং সুস্থ থাকুন।
এটি শিক্ষামূলক তথ্য — চিকিৎসা সিদ্ধান্ত শুধু ডাক্তারের সাথে নিন।